সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

DSC05484.JPG

মিল-অমিল একদিনে কলকাতা শহরটা’কে আমি যেভাবে দেখেছি

তবে সচক্ষে পুরনো আমলের দু’চাকা যুক্ত ঠেলা রিক্সাগুলো’র অবয়ব দেখে খুবই অবাক হয়েছি। ঐতিহ্য রক্ষার ছুতোয় এখনো একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে টেনে নিয়ে যাবে - এটা কেমন কথা?

এতদিনের কলকাতা শহরটা আমি শুধুই মুভিতে দেখেছি। গানে শুনেছি। বইতে পড়েছি। সময়ের আবর্তে তাই আমার ভেতর সগৌরবে বসত গড়েছে; গড়ে নিয়েছে কলকাতা। ক্রমে জমে ভারী হয়েছে কলকাতা ঘিরে কতকথা। উপকথা। গল্প। গান। কবিতা। আমার বিশ্বাস এসব নিয়ে লিখতে গেলে সময়ের ভিড় কখনো এক তীরে এসে থামবে না।

আর এখন সেই আমার এই কলকাতায় আসা হল। হোটেলে থাকা হল। রেস্তোরায় খাওয়া হল। রিক্সা-ক্যাবেও চড়া হল। খুব কাছের চোখ দিয়ে দেখা হল অচেনা এ শহরটাকে। কানে শুনা হল। মুখোমুখি জানা হল। ঘুরাও হল এখানে সেখানে। অনুভবের ফলে আসল কত মিল-অমিল। যত্রতত্র। ভালো লাগা। মন্দ লাগা। অনেক। অনেক।

শহর হিসেবে বলা যায় - কলকাতা বেশ ছিমছাম। শান্ত। জীবিকা ঘিরে নানা রকমের লোক। নানামুখী ব্যস্ততা। লোকারণ্য স্পষ্টত চারদিক। চলমান ভিড় এদিক সেদিক।

ছোটবড় দালানগুলোর এক একটা দেয়ালে এক একটা স্পষ্ট বয়সের ছাপ পড়ে আছে সবখানে।

রাস্তাগুলো বেশ বড়সড়। খুব পরিচ্ছন্ন। তবে সীমিত ডাস্টবিন। বড় রাস্তা, ফ্লাইওভার, বেড়ীবাঁধ - এসবের দু’ধারে লেগে আছে রং
। শুধু নীল আর সাদা সে রং। কোথাও রঙচটা পোস্টার ব্যানারের ছড়াছড়ি আহামরি মনে হয় নি।

কলকাতার রাস্তায় ট্র্যাফিক ম্যানের কোন দেখা নেই। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত লাল-সবুজ ট্রাফিক সিগন্যাল গোচরে রেখেই যথার্থে সব গাড়ী এসে থামছে; অপেক্ষা করছে 
;ফের ছুটছে - সর্বত্র এ রকমই দৃশ্যপট। বড় রাস্তার পিচের বুকে আসন গড়েছে রেলের (মেট্রো) স্লিপার। বাস, ট্রাক, ক্যাব - সমূহ যানের অবয়বে একটা অন্যরকম মিল আছে।

দু’চাকা যুক্ত যানের মধ্যে আছে পুরনো ধাঁচের সাইকেল এবং নতুন পুরনো উভয় ধাচের মোটরসাইকেল। এই দু’য়ে মিলিয়ে আবার মোটরসাইকেলের আধিক্যতা। তবে সচক্ষে পুরনো আমলের দু’চাকা যুক্ত ঠেলা রিক্সাগুলো’র অবয়ব দেখে খুবই অবাক হয়েছি। ঐতিহ্য রক্ষার ছুতোয় এখনো একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে টেনে নিয়ে যাবে - এটা কেমন কথা? এ বেলায় এসে আধুনিক বিজ্ঞান, বিশ্বায়ন কিংবা উদার মুক্ত মানবতা - এসবের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান হতে হয়েছে। নতুন করে ভাবতে হয়েছে বারংবার।

আমার কাছে এখানকার খাবারের আয়োজনটা বেশ অভিনব লেগেছে। বড়সড় একটা প্লেটে চার পাঁচটে পরিমিত আইটেমের সমাহার
। বড় সে প্লেটে আবার থরে থরে ছোটছোট বাটি; যাতে সাজানো থাকে এক একটা আইটেম। একবারে পরিবেশন। হোটেলে। ফুটপাতে। সবখানে। খাবারের আলাদা রুচি। আলাদা ধরন। ভাষার ফারাক - এসব তো আছেই।

নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্যাদি বিপননে এখানকার মাইক্রো ইকোনমিক স্ট্যাটাস চোখে পড়ার মত। আথিতেয়তা এই টার্মটা এখানে একেবারেই অপরিচিত মনে হয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তির বিষয়টাও একই। ভিক্ষুক-টোকাই এদের সংখ্যা নেহায়েত নেই মনে হয়েছে।

মনে হয়েছে কলকাতা’র মানুষগুলো মারাত্মক রূঢ় প্রকৃতির। কিন্তু বেশ হিসেবী। আবেগ প্রবণতা’র নেই কোন বাড়তি প্রকোপ। এখানকার নারী-পুরুষে তেমন কোন ভেদাভেদ মেলানো দুষ্কর
। এখানে  লোকাল বাসে নৈমিত্তিক একইসাথে নারী-পুরুষকে দাঁড়িয়ে যাওয়াটা যেন একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। চেহারা ও পরনে একটা বৈচিত্র্য আছে। অন্যরকম। তবে সে বৈচিত্রে নারীদের খোলামেলা টাইট-ফিট কাপড়ে চলাফেরা একটু দৃষ্টিকটু। বৈ কি।

ধান্ধা করার একটা প্রকট অভিলাস অনেকের মাঝে। সদা জাগ্রত সে উৎপাত। যান্ত্রিক বাস্তবতায় তাই যাপিত জীবনগুলো অনেক বেশি জটিলতর।

দিনের শেষে রাতের কলকাতা’টা সেভাবে আমার দেখা হয়ে উঠে নি। সন্ধ্যা সাতের 'সাঁতরাগাছি টু চেন্নাই' পথে এসআরসি এক্সপ্রেস ট্রেনে (জার্নি সময় মাত্র ৩০ ঘণ্টা’র মত; তবে আমাদের লেগেছিল তেত্রিশ ঘণ্টা) বুকিং করা টিকেটে তামিল নাড়ু’র উদ্দশ্যে পাড়ি জমাতে হয়েছে। কেবল অপূর্ণ থেকেছে আমার রাতের কলকাতা দেখার প্রকট ইচ্ছা। সে দেখার সূবর্ণ সুযোগ কবে আসে - কে জানে?


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

reality, poetry, movie, song, traffic, city, day, life, travel, india, kolkata