সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Magdeburg-Water-Bridge-Amazing.jpg

দারুণ স্থাপত্য জলের উপর জলের সেতু

মোটরগাড়ি, ট্রেন কিংবা অন্যান্য স্থলযানের জন্য নয়; মুলত লঞ্চ, স্টিমার, বানিজ্যিক জাহাজসহ অন্যান্য জলযান চলাচলের জন্য এই সেতুটি তৈরি করা হয়।

সেতু বলতেই আমাদের মনে ভেসে ওঠে কোনো নদীর এপার থেকে অপর পারে যাওয়ার রাস্তা কিংবা ব্যাস্ততম শহরে এক রাস্তার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া আরেক রাস্তা। যেখান দিয়ে চলাচল করবে চাকাওয়ালা শত শত গাড়ি। কিন্তু জলের সেতু শব্দটা শুনতে বেশ অদ্ভুতই লাগে। হ্যা, ব্যাপারটা অদ্ভুত হলেও বাস্তব।

জার্মানির বার্লিন শহরের কাছাকাছি একটি শহর ম্যাগডেবার্গ এ অবস্থিত বলে এটিকে ম্যাগডেবার্গ ক্যানেল ব্রীজ বা ম্যাগডেবার্গ ওয়াটার ব্রীজ বলে ডাকা হয়। স্থাপত্যকলার এক অপুর্ব নিদর্শন এই ব্রিজ। 

জার্মানীর পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে এলবে নদীর উপর এই ব্রীজটি অবস্থিত। পুর্ব ও পশ্চিম জার্মানীর দুটি বিখ্যাত খাল হলো এলবে হ্যাভেল খাল ও মিট্টেল্যান্ড খাল। এই দুইটি খালের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে সৃষ্টি করে নির্মিত হয়েছে ম্যাগডেবার্গ ওয়াটার ব্রিজ। 

শুধু খাল দুটোই নয়। এর দ্বারা যুক্ত হয়েছে পুর্ব ও পশ্চিম জার্মানীও। বানিজ্যিক জাহাজগুলো এখন খুব সহজেই ১২ কিলোমিটার পথ কম অতিক্রম করেই রাই নদীতে ও বার্লিন বন্দরে পৌছুতে পারে।

মোটরগাড়ি, ট্রেন কিংবা অন্যান্য স্থলযানের জন্য নয়; মুলত লঞ্চ, স্টিমার, বানিজ্যিক জাহাজসহ অন্যান্য জলযান চলাচলের জন্য এই সেতুটি তৈরি করা হয়। ৯১৮ মিটার দৈর্ঘ্য, ৩৪ মিটার প্রস্থ এই সেতুতে সার্বক্ষণিক ৪.২৫ মিটার গভীর পানি থাকে যার দরুন এ সকল জলযান সহজেই চলাচল করতে পারে। এই সেতুটি তৈরি করতে প্রয়োজন হয়েছিলো ২৪ হাজার মেট্রিক টন স্টীল ও ৬৮ হাজার ঘনমিটার কংক্রিট।

অসাধারন স্থাপত্যকলার পাশাপাশি এই সেতুটির রয়েছে প্রায় শতবর্ষ প্রাচীন ইতিহাস। এই প্রজেক্টটির কাজ শুরু হয়ে ১৯০৫ সালে। ১৯৩৮ সালে শুরু হয় এই সেতুটির নির্মাণ কাজ। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এর নির্মানকাজ বন্ধ হয়ে যায়। 

এরপর প্রায় অর্ধশতাব্দী বন্ধ থাকে এর কাজ। ১৩ আগস্ট ১৩৬১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ২৮ বছর পশ্চিম জার্মানী ও পূর্ব জার্মানী পৃথক ছিলো বার্লিন প্রাচীরের মাধ্যমে। যার ফলে এই পুর্ব ও পশ্চিম জার্মানীর মধ্যকার এই ব্রীজ এর নির্মান কাজ চালু হয়নি।

আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর বার্লিন প্রাচীর তুলে দিয়ে দুই জার্মানীর পুনঃএকত্রিকরণ এর পথ প্রশস্ত করা হয়। দুই জার্মানি এক হয়ে গেলে ১৯৯৭ সালে আবার নতুন করে শুরু হয় এই সেতুর কাজ এবং টানা ছয় বছর কাজ চলার পর ২০০৩ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং যান চলাচলের জন্য এই একই সালে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

এই সেতুতে স্থলযান চলাচলের জন্য কোনো ব্যাবস্থা না থাকলেও রয়েছে প্রশস্ত ফুটপাথ। ব্যাতিক্রমধর্মী সেতু হওয়ার কারণে বানিজ্যিক গুরুত্বের পাশাপাশি নজর কেরেছে পর্যটক দেরও। প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভীড় জমায় এই জল সেতুটি দেখার জন্য। আপনিও চাইলে সময় সুযোগ করে দেখে আসতে পারেন অসাধারণ এই স্থাপত্যকলা।  

সুত্রঃ উইকিপিডিয়া এবং এমিউজিং প্ল্যানেট


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

সেতু, জার্মান, ম্যাগডেবার্গ, ব্রিজ, যান-চলাচল, পর্যটক