সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

10974549_627886974022025_3585052148073624386 2_o.jpg

মসজিদ ৮০০ হিজরীতে প্রতিষ্ঠিত জোড়বাংলা মসজিদ

সম্ভবত ৮০০ হিজরীতে শাহ সুলতান মাহমুদ ইবনে নুসাই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। সাদিকপুর মসজিদ, খান জাহান আলী (রা:) মাজার সংলগ্ন মসজিদ, ডুমুরিয়ার সারসনগর মসজিদ, অভয়নগরের শুভারাদা মসজিদ এবং বাগেরহাট বিবি কেরানী মসজিদর নির্মাণ শৈলীর সাথে এ মসজিদের সাদৃশ্য আছে।

ঝিনাইদহের বারোবাজার মৌজায় এ মসজিদটি অবস্থিত। ১৯৯২-৯৩ সালে প্রত্নতত্ব বিভাগ কর্তৃক খননের ফলে আবিষ্কৃত হয়েছে এক গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি। এর পাশে কয়েকটি কবর আছে। ছোট ছোট সুন্দর পাতলা ইটে গাঁথা এ মসজিদটি ১০/১১ ফুট উচুঁ প্লাটফর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত।

মসজিদে প্রবেশের পথটি উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত। এ প্রবেশ পথ থেকে দীঘি পর্যন্ত ইটের তৈরী বিশাল সিঁড়ি নেমে গেছে। বর্গাকৃতি এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি পুন:নির্মিত হয়েছে। এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় হয়। পশ্চিম দেয়ালে অর্ধবৃত্তাকারে পোড়ামাটির নক্সা ও অলংকরণে ৩টি মেহেরাব আছে। চুন বালির প্লাস্টারের কাজও লক্ষ্য করা যায়। মেহেরাবের দুই পাশেই ছোট পিলার আছে। কেন্দ্রীয় মেহরাবটি ফুল ও লতাপাতা অংকিত ইটের তৈরী। স্থাপত্য শিল্পের সৌন্দর্য ও কারুকার্যময় এ দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি মুসলিম সভ্যতা ও উৎকর্ষের নিদর্শন।

সম্ভবত ৮০০ হিজরীতে শাহ সুলতান মাহমুদ ইবনে নুসাই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। সাদিকপুর মসজিদ, খান জাহান আলী (রা:) মাজার সংলগ্ন মসজিদ, ডুমুরিয়ার সারসনগর মসজিদ, অভয়নগরের শুভারাদা মসজিদ এবং বাগেরহাট বিবি কেরানী মসজিদর নির্মাণ শৈলীর সাথে এ মসজিদের সাদৃশ্য আছে।

জোড়বাংলা মসজিদের উত্তরের পুকুরটি অন্ধপুকুর নামে পরিচিত। সুলতান মাহমুদ শাহের শাসনামলে মুসল্লীদের ওজু ও পানীয় জলের প্রয়োজনে সম্ভবত এ পুকুর খনন করা হয়েছিল। মসজিদের উত্তর-পূর্বের প্রবেশ দ্বার থেকে অন্ধপুকুরের তলদেশ পর্যন্ত ইট বাঁধানো সিঁড়ির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

গলাকাটা মসজিদ থেকে কয়েকশ গজের মধ্যেই জোড়বাংলা মসজিদের অবস্থান। জোড়বাংলা নামকরণ সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য নেই। তবে প্রচলিত লোককথা মতে ঐ স্থানে একটা জোড়া কুড়ে ঘর ছিল। সে কারনেই এর নামকরণ করা হয় জোড়বাংলা। আবার কারো কারো মতে এখানে জোড়া দিঘি ছিল। যার কারনে জোড়বাংলা নামকরণ হয়েছে।

১৯৯২ সালে প্রত্নতাত্বিক বিভাগ খুলনা, মসজিদটির খনন কাজ সম্পন্ন করে। বর্গাকৃতির মসজিদটির প্রবেশপথ উত্তর-পূর্ব পার্শ্বে। উত্তরপার্শ্বের প্রবেশপথ থেকে পার্শ্ববর্তি দিঘির ঘাট পর্যন্ত ইটের রাস্তার সন্ধান মেলে। ধারনা করা হয়, মুসল্লীদের অযু করার জন্য এই ঘাটটি ব্যবহৃত হতো। সম্প্রতি তৈরি একটি পাকা রাস্তা ঘাট ও মসজিদটিকে আলাদা করে ফেলেছে।

এই এলাকা হতে একটি শিলালিপির কয়েকটি ভগ্নাংশ আবিস্কৃত হয়। শিলালিপি থেকে সঠিক তথ্য উদঘাটন করা না গেলেও অনুমান করা হয় যে, আলাউদ্দিন হুসাইন শাহের পুত্র সুলতান গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনকালে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। খননকালে কোন গম্বুজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে একটি গম্বুজসহ মসজিদটি পুণঃনির্মিত হয়েছে। কেবলা দেওয়ালে রয়েছে তিনটি অর্ধবৃত্তআকৃতির মেহরাব। মেহরাবের দু পাশে দেয়ালের সঙ্গে সংযুক্ত ছোট পিলার অবস্থিত এবং আয়তাকার ফ্রেম দ্বারা প্রান্তসীমা বাধানো। ভিতর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালের প্রত্যেকটিতে দুটি করে মসজিদের দেওয়ালে চারটি ছোট কুলঙ্গি আছে।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

Bangladesh, jhinaidah, jarbangla, mosque